ধরুন আপনার ঘুম আসে না রাতে, নিদ্রাহীনতায় ভোগেন। এ মুহূর্তে ডাক্তারের কাছে গেলেন ডাক্তার আপনাকে ঔষধ দিল। কিন্তু সে ঔষধেও কোন কাজ হলো না, এরপর ডাক্তার আপনাকে বললেন যে আপনার দেশি ঔষধে কাজ হবে না, বিদেশি হাই পাওয়ারের ঔষধ লাগবে এবং সেটাই তিনি এনে দিলেন।
আসলে সেটা কোনো বিদেশি ঔষধই না। জাস্ট তার অফিস থেকে একটু চিনির পানি শিশিতে করে এনে দিলো। কিন্তু দেখা গেলো যে এবার আপনার ঘুম এসে গেছে। আরে অদ্ভুত তো! ঔষধ খেয়ে কিছুই হলো না, কিন্তু চিনির পানি খেয়ে কাজ হয়ে গেলো? এ কি করে সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। কী করে সম্ভব সেসবই এখন আলোচনা করব।
এইযে এতক্ষণ আমরা যে ব্যাপারটা দেখলাম, সেগুলো যতটা না পরিমান মেডিসিনের কেরামতি, তার চেয়েও বেশি যে জিনিসটা লক্ষ করার মতো, তা হচ্ছে মানসিক অবস্থা। আর এইরকম সিচুয়েশনকে আমরা ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’ বলতে পারি।
একজন সুস্থ সবল মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্নবিশ্বাস এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। দেখা যায় আত্নবিশ্বাসের ফলে অনেক সময় মানুষের ছোট খাটো অসুখ বিসুখ সেরে যায়।
আবার অনেক ছোট খাটো অসুখও মানসিক দূর্বলতার কারণে এক বড় সমস্যায় পরিণত হয়। তাই বলে ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কি মস্তিষ্কের সাথে সম্পর্কযুক্ত? হ্যাঁ অবশ্যই কিছুটা সম্পর্ক আছে।
কারণ মানুষের শরীর আর মন একে অপরের পরিপূরক। মস্তিষ্ক আমাদের মানসিক অবস্থার পরিচালনা করে। তবে প্লাসিবোর প্রভাব ব্যাক্তিবিশেষে কমবেশি হতে পারে।
প্লাসিবোর ক্ষেত্রে আমরা মেডিসিন হিসেবে যেসব ব্যাবহার করি সেগুলো মূলত আমাদের মস্তিষ্ককে ধোঁ’কা দেওয়ার জন্য ব্যাবহার করা হয়। মস্তিষ্ক ভেবে নেয় তাকে মেডিসিন দেওয়া হয়েছে তার মানে সে সুস্থ।
ঠিক যেমনটা দেখলাম ঘুমের ঔষধের ক্ষেত্রে। সেখানে আপনাকে যখনই বিদেশি ঔষধের কথা বলা হলো আপনি ভাবলেন খুব হাই পাওয়ারের ঔষধ এবার ঘুম আসবেই। আপনার মস্তিষ্ক ও এটাই ভেবে নিয়েছে। আর তাতেই আপনার ওই চিনির পানি খেয়ে ঘুম এসে গেছে।
শরীরের সাথে মনের একটি সরাসরি যোগাযোগ আছে বলেই ডাক্তাররা আজকাল প্লাসিবো পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে থাকেন। এজন্য নিজের মধ্যে সবসময় পজিটিভ একটা মনোভাব রাখবেন সবসময়। যেনো হালকা কোনো অসুস্থতা আপনাকে গ্রাস না করতে পারে।
মনের শক্তি অনেক, এটা হয়তো আপনি অনুভব করতে পারবেন না কিন্তু পৃথিবীতে যত বড় সৃষ্টি আছে সেগুলো মনের দৃঢ় বিশ্বাস আর শক্তির বলেই গড়ে উঠেছে।