রমজান মাসে রোজা রাখা স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য ব্যাপক ভুমিকা পালন করে। তাই রোজা রাখার সাথে সাথে আমাদের নিজেদের সুস্থ রাখাও জরুরি। তাই শারীরিকভাবে নিজেকে কিভাবে সুস্থ রাখা যায় সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো।
বেশিরভাগ মানুষ যে বিষয়টিতে ভুল করেন সেটি হলো ইফতারের প্রথমেই অনেকে তেল মশলাজাতীয় বা ভাজা খাবার খেয়ে বসেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। মনে রাখতে হবে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় শরীরের প্রতিটি জীবন্ত কোষের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন হলো গ্লুকোজ।
বিশেষ করে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু কোষের জন্য। ইফতারের সময় ৩টি খেজুর এবং হাপ গ্লাস যেকোন ফলের রস গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে যথেষ্ট। তবে আলাদা করে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া যাবে না। সব্জির স্যুপ, গম বা আটা দিয়ে বানানো যেকোন শুকনো খাবার, ২-৩টি সাধারণ ক্র্যাকার বিস্কুট এগুলো ইফতারের উপযোগী খাদ্য।
ইফতারে অনেকে বিরিয়ানি, পোলাও, কোরমা খেয়ে বসেন যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। কারণ সারাদিন না খেয়ে থাকার পর সরাসরি এই জাতীয় খাবার খেলে শরীর ভারী হয়ে যায়, পেটে অস্বস্তি লাগে, বুক জ্বালা করে, বমি বমি ভাব হয়, ঢেকুর এবং পেট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই ইফতারে এই খাবারগুলি না রাখাই ভালো।
রাতের খাবারে সুষম খাবার, সবজি এবং প্রোটিন রাখা জরুরি। রাতে গমের রুটি বা এক কাপ ভাত খেতে পারলে ভালো। এটি শরিরে কার্বোহাইড্রেটের অভাব পূরন করবে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তি সরবরাহ করবে।
সাথে অবশ্যই সালাদ খেতে হবে। খাবার শেষে টক দই বা চিনি ছাড়া লস্যি খাওয়া ভালো। হজমে সহায়তা করবে। তারপর রাতে ঘুমানোর আগে যেকোন ফল, বিশেষ করে কমলালেবু, আঙ্গুর যা শরীরে ভিটামিন সি প্রদান করে। সাথে বাদাম লবণ ছাড়া খাওয়া যেতে পারে।
সেহরিতে হালকা খাবার খান। ভাত বা রুটি, সব্জি, সালাদ, ফল আর এক কাপ দুধ। তবে এই সময় চা কফি খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ চা কফি শরীর ডিহাইড্রেট অর্থাৎ পানি শুন্য করে দেয়। যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই চা কফি না খেয়ে বেশি করে পানি খেতে হবে।
রমজান মাসে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে রোজার সময় শরীরে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। তখন চর্বির কার্যকর ব্যবহার হয়। যার ফলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া কমে যায়।
তাই স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাবার খেতে হবে কিন্তু সুষম খাবার খেতে হবে। যা আপনাকে সুস্থ এবং সক্রিয় রাখতে সক্ষম। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। লবণাক্ত খাবার খাওয়া কমাতে হবে। নিজেকে হাইড্রেট রাখা জরুরি। তাই প্রতিদিন সুর্যাস্ত এবং সুর্যোদয়ের মধ্যে ২-৩ লিটার পানি খাওয়ার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।