মানুষের কামড়ে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে, যা কামড়ের গভীরতা, অবস্থান এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
নিচে সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর তালিকা দেওয়া হলো—
১. ইনফেকশন (সংক্রমণ)
মানুষের মুখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যেমন Streptococcus, Staphylococcus, এবং Eikenella corrodens, যা কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
২. ভাইরাল সংক্রমণ
মানুষের কামড়ের মাধ্যমে কিছু ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, যেমন—
*হেপাটাইটিস বি ও সি (যদি কামড় দেওয়া ব্যক্তির রক্তে ভাইরাস থাকে)
*হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV)
*হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV) – যদিও এই ঝুঁকি খুব কম
৩. টিস্যু ও নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
*গভীর কামড়ে পেশি, নার্ভ বা টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে ব্যথা, দুর্বলতা বা চলাচলের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. র্যাবিস ভাইরাস
*যদি কামড় দেওয়া ব্যক্তি জলাতঙ্ক (Rabies) আক্রান্ত হয়, তবে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতে পারে, যদিও এটি খুব বিরল ঘটনা।
৫. সেপসিস (রক্ত সংক্রমণ)
*যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে এটি রক্তে ছড়িয়ে মারাত্মক অবস্থা তৈরি করতে পারে, যাকে সেপসিস বলা হয়।
৬. হাড় বা জয়েন্ট সংক্রমণ
*গভীর কামড়ের ফলে অস্টিওমায়েলাইটিস (হাড়ের সংক্রমণ) বা সেপ্টিক আর্থ্রাইটিস (জয়েন্ট সংক্রমণ) হতে পারে।
করণীয়:
*কামড়ের জায়গাটি সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করুন সাবান ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে।
*জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।
*যদি ক্ষত গভীর হয় বা ফুলে যায়, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
*টিটেনাস বা হেপাটাইটিস বি টিকা দরকার হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:
*কামড়ের জায়গা ফুলে গেলে, লাল হয়ে গেলে বা পুঁজ বের হলে
*জ্বর বা দুর্বলতা অনুভব করলে
*যদি কামড় দেওয়া ব্যক্তি সংক্রমিত বা অপরিচিত হয়