ব্ল্যাক হেডস্ বা হোয়াইট হেডস্ হলো ত্বকে আটকে থাকা লোমকূপের ময়লা। যা মেডিকেল ভাষায় কমেডো বলা হয়। অতিরিক্ত সিবাম বা ডেড সেল (Dead Cell) আটকে কেরাটিন তেলের সাথে মিশে ফলিকল ব্লক করে। যা পরবর্তীতে ব্রণ বা কমেডো হিসেবে বিবেচিত হয়। তৈলাক্ত ত্বক কমেডোনের প্রধান কারণ।
এটি মূলত থুতনিতে, নাকে এবং কপালে বেশি দেখা যায়। পৃথিবীতে ৮৫% মানুষ এই সমস্যার সম্মুখীন হয়। এই কমেডোন ত্বকে খোলা বা বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। আবার অনেক সময় ব্রণসহ বা ব্রণ ছাড়াই হতে পারে।

ব্ল্যাক হেডস্ বা হোয়াইট হেডস্ দীর্ঘদিন প্রদাহজনক অবস্থায় গেলে সেখানে পুঁজ হয়ে ব্রণ আকারে বেড়ে উঠে। ইনফেকশনের কারনে প্রদাহ হয়ে পুঁজ তৈরি হয়।
কারণ
কমেডো বিশেষ করে Teen-age বা বয়সন্ধিকালের ছেলে মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বয়সন্ধিকালের সময় সেবেসিয়াস গ্রন্থিতে তেল উৎপাদন বেড়ে যায় যার ফলে কমেডোন বা ব্রণ দেখা দেয়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের আগে এবং যেসব মেয়েরা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে আক্রান্ত তাদের বেশি দেখা দেয়। তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে ধুমপান কমেডোনের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

কমেডোন মূলত ত্বকের যত্নের অভাবে লোমকূপে ময়লা জমে সেখান থেকে প্রদাহ শুরু হয়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ত্বক পরিস্কার রাখা সর্বপ্রথম করণীয়। যাদের স্কিন অতিরিক্ত তৈলাক্ত তাদের নন-অয়েলি ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। যেমন- Cetaphil Face Wash. যা ড্রাই স্কিন বা সেন্সিটিভ স্কিনের জন্য খুবই উপকারী। এটি স্কিন ডিপ ক্লিন করতে সহায়তা করে।
মুক্তির উপায়
অ্যালোভেরা জেল স্কিনের জন্য ভীষন উপকারী। যা মুখের অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করে। তাই একটি ফ্রেশ অ্যালোভেরা পাতা বা অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করবে এবং কমেডো হওয়া থেকে মুক্তি দিবে।
চন্দন আরেকটি উপকারী উপাদান। কারণ চন্দন একটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেশন উপাদান। যা কমেডো নির্মূলে সাহায্য করে। তাই চন্দনের গুঁড়া ও গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে মুখে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।
মুখে গরম ভাপ নেওয়া যেতে পারে। একটা গামলায় ধোঁয়া ওঠা গরম পানি নিয়ে তার ওপর মুখ রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গামলা থেকে মুখের দূরত্ব কমপক্ষে যেন এক হাত থাকে। গরম ভাপ কমেডোনের বা হোয়াইট হেডস্ এর মুখ খুলতে সাহায্য করে আর খুব সহজে হোয়াইটহেডস পরিষ্কার করা যায়।
মধু ত্বকের জন্য আরো একটি কার্যকর উপাদান। মধুতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টি আছে। কমেডোন দূর করতে মধু ও লেবুর রস দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।

কমেডোন থেকে মুক্তি পেতে মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করা জরুরি। আর তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মুখ ঠান্ডা রাখা আবশ্যক। আর তরমুজের রস বা লেবুর রস ত্বক ঠান্ডা রাখতে এবং নরম রাখতে সাহায্য করে। লেবু হচ্ছে ত্বকের প্রাকৃতিক পরিস্কারক। তাই তৈলাক্ত ত্বকে প্রতিদিন লেবুর রস ব্যবহার করলে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।
টমেটো হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক যা কমেডোন দূর করে। তাই এটি ঘুমানোর আগে মুখে লাগিয়ে ঘুমালে সারারাত এটি এফেক্টেট এরিয়াতে কাজ করে। এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলার পর ত্বক ভিতর থেকে পরিস্কার হয়।
ডায়েট প্ল্যানে চিনি, তেল এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। পানি এবং ফল, শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে।
এছাড়া মুখে মেকআপ নিয়ে ঘুমানো এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ঘুমাতে হবে। বালিশের কভার ২ দিন পর পর পরিস্কার করে ব্যবহার করতে হবে। ধুলোবালি বা দূষনযুক্ত জায়গা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। বাইরে বের হলে অবশ্যই একটি ফেইস মাস্ক বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে হবে।
আশা করছি এই পদ্ধতিগুলো মেনে চললেই কমেডোন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে যদি কখনও আরও বেশি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।