বর্তমান বিশ্বে খুব সাধারন একটি সমস্যা হচ্ছে নখে ফাঙ্গাল ইনফেকশন। আমরা প্রতিনিয়ত অনেকেই এই সমস্যাটির সম্মুখীন হচ্ছি।তবে এর প্রতিকার কি বা কিভাবে আমরা চিকিৎসা করতে পারি তা আমাদের অনেকেরই অজানা। তাই আজ আমি আপনাদের সাথে নখের ফাঙ্গাল ইনফেকশনের চিকিৎসা নিয়ে কথা বলবো।
নখের ফাঙ্গাল ইনফেকশন প্রতিকারের জন্য আমাদের প্রথম করনীয় হলো হাত পা সবসময় শুষ্ক রাখা। হাত পা ভেজা থাকলে সেখানে ফাঙ্গাল জন্ম নেয়ার সুযোগ সবথেকে বেশি।
কারন ফাঙ্গাস মূলত জন্ম নেয় ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে, ঠান্ডা জায়গা থেকেই। তাই আমাদের সবসময় হাত পায়ের নখ শুকনো রাখা জরুরি। এছাড়া যাদের সবসময় জুতা পড়ে থাকতে হয় এবং যাদের প্রচুর পরিমাণে পা ঘামে তাদের এমন জুতা পড়া উচিত যেখানে অক্সিজেন চলাচল করতে পারবে। যার ফলে পা ও কম ঘামবে এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি ও কমানো যাবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : যাদের শরীরে ইন্সুলিনের পরিমাণ বেশি তাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশি থাকে। যার ফলে ফাঙ্গাস বেশি জন্ম নেয়। কারন ফাঙ্গাসের মূল খাবারই হচ্ছে সুগার। তাই ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে বাঁচতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চিনিযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।
রোগ প্রতিরোধ : হাত পা প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট হলেও রোদে শুকাতে দিতে হবে। কারন রোদ আমাদের শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব পূরণ করে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে।
হোয়াইট ভিনেগার : এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি। হোয়াইট ভিনেগার ড্রপার দিয়ে ২-৩ ফোঁটা নখে দিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখতে হবে। হোয়াইট ভিনেগারে এসিডিক এসিড বেশি থাকে। যা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে। তাই এটি নখে লাগিয়ে রাখার ফলে ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে না এবং দ্রুত ইনফেকশন প্রতিকারে সাহায্য করে।
পার্সোনাল হাইজিন মেইনটেইন করতে হবে। নখ সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসলের সময় নরম ব্রাশ দিয়ে নখ পরিস্কার করতে হবে তারপর একটি পরিস্কার কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে হোয়াইট ভিনেগার দিয়ে রাখতে হবে।
নখের কোণা কখনো কাটা যাবে না। নখের কোণা ফাঙ্গাস জন্ম নেয়ার সব থেকে আরামদায়ক জায়গা। তাই নখের কোণা কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তেল ব্যবহার করতে হবে। যেমন –
Tea Tree Oil অর্থাৎ চা-পাতার তেল,
Cloves Oil অর্থাৎ লবঙ্গ তেল,
Oregano oil
এই তেল গুলো ইনফেকশন মেরে ফেলতে সহায়তা করে।
ম্যাগনেশিয়াম সালফেট : এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান- Epsom Salt অর্থাৎ ম্যাগনেশিয়াম সালফেট। এটিও বাজারে কিনতে পেয়ে যাবেন। এই Epsom salt ২ টেবিল চামচ আর ৪ কাপ পানি নিয়ে একটি সলুশন তৈরি করে ১৫ মিনিট হাত পা ভিজিয়ে রাখতে হবে দিনে ১ বার। এটিও ফাঙ্গাল ইনফেকশন মেরে ফেলতে সাহায্য করবে।
আয়োডিন (Iodine) বা ১০% ভায়োডিন (10% Viodine). এটি সরাসরি নখের গোড়ায় লাগিয়ে রাখলে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন কোনোভাবে চোখে, মুখে বা বাচ্চাদের হাতের কাছে না যায়।
সর্বশেষ করনীয় হলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-সি, জিংক এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করা। সাথে stress মুক্ত থাকার চেষ্টা করা। কারন stress একটি মারাত্মক কারণ যেকোনো ইনফেকশন জন্ম নেয়ার। আর এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা দমিয়ে দেয়।
তাই বেশি পরিমানে সমস্যা দেখা দিলে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
Good Information.