অ্যালার্জির কারণ ও চিকিৎসা

আজকে আমি আপনাদের সাথে যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো সেটি আমাদের খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। আমরা কম বেশি সবাই অ্যালার্জি শব্দটর সাথে ভীষণভাবে পরিচিত। এমন কেউই নেই যাদের কখনো অ্যালার্জি দেখা দেয়নি। তবে একেকজনের অ্যালার্জি একেক কারনে দেখা দেয়।

ফুড অ্যালার্জি, ডাস্ট অ্যালার্জি, মোল্ড অ্যালার্জি, অনেকের আবার অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার কারনেও অ্যালার্জি দেখা দেয়। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ফুড অ্যালার্জি বেশি দেখা যায়।

কিছু প্রশ্ন করতে দেখা যায় আমার তো সব খাবারেই অ্যালার্জি হয় আর প্রিয় খাবার গুলোতেই সব থেকে বেশি হয়। তাহলে করনীও কি?

অ্যালার্জির চিকিৎসা:

১. প্রথম এবং সব থেকে কার্যকর ধাপ হলো অ্যালার্জি হতেই না দেওয়া। তার মানে যে খাবার বা যে জিনিসগুলো আপনার অ্যালার্জির কারন সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখা। তাই আপনার প্রিয় খাবার হলেও আপনার ভালোর জন্য সেগুলো আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে।

২. এমন কোনো খাবার নেই যা আপনার ফুড অ্যালার্জি সাড়িয়ে দেবে। প্রত্যেকের অ্যালার্জিক খাবার ভিন্ন ভিন্ন। তাই যে খাবারে আপনার সমস্যা হচ্ছে সেগুলো বাদ দিয়ে দিন। তবে এমন কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন যা আপনার অ্যালার্জি কমাতে সাহায্য করবে।

৩. পেয়াজ, আপেল, ফুলকপি, বাধাকপি, আঙুর, বাদাম, টক দই, ফ্যাটসমৃদ্ধ মাছ এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার যা আপনার শরীরে অ্যালার্জির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে।

৪. এছাড়া যাদের ডাস্ট অ্যালার্জি বা মোল্ড অ্যালার্জি আছে তারা ধুলো বালি, ধোঁয়া, ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা এড়িয়ে চলবেন। এগুলোর পাশাপাশি একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি-হিস্টামিন (anti-histamine) বা স্টেরয়েড (steroid) নামের ঔষধ গুলো খেতে পারেন।

তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই খাবেন। কারন স্টেরয়েড (Steroid) খুবই শক্তিশালী ঔষধ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমিয়ে দেয়। এতে আপনি অল্প কিছুদিনের জন্য অ্যালার্জি থেকে আরাম পেলেও এটি আপনার শরীরে অন্য জীবানুর সাথে লড়াই করতে পারে না।

ফলে অন্য ক্ষতিকর জীবানু বাসা বাঁধে। তাই কোনো ঔষধ খাবার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই খাবেন।

৫. এছাড়া অ্যালার্জি পরবর্তী চিকিৎসা হিসেবে ইমিইনোথেরাপি (immunotherapy) অর্থাৎ অ্যালার্জিক ভ্যাক্সিন (Allergic vaccine) নিতে পারবেন। এটি অল্প অল্প করে কয়েক বছর ধরে নিতে হয়। তবে পুরোপুরি না সাড়লেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।


আশা করি এই ছোট ছোট টিপস্ গুলো আপনাদের কাজে আসবে। টিপস্ গুলো মেনে চলুন আর বেশি সমস্যা দেখা দিলে একজন চিকিৎসক বা অ্যালার্জি স্পেশালিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *